২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মুখে ডেনমার্ক: প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসন

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ডেনমার্ক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ডেনমার্কের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এক বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডরিকসন বলেন, এটি এখন শুধু একটি কূটনৈতিক সংকট নয়, বরং এমন এক সময়, যখন নেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করবে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, মেরু অঞ্চল হোক বা অন্য যে কোনো জায়গা—ডেনমার্ক তার মূল্যবোধ রক্ষায় অটল থাকবে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান জানাবে।

গ্রিনল্যান্ডের খনিজসম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া ও চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব ঠেকাতেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজন—এমন যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। তবে এ অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন যুক্তরাষ্ট্রের এ হুমকির নিন্দা জানিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখল আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হবে। তিনি ডেনমার্কের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জানান, নর্ডিক দেশগুলো, বাল্টিক অঞ্চলের রাষ্ট্রসমূহ এবং ইউরোপের একাধিক বড় দেশ ডেনমার্কের পাশে রয়েছে।

এদিকে জার্মানিও ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়েডেহপুল মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ন্যাটোর অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন ন্যাটোর অধীনে মেরু অঞ্চলে নতুন ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ মিশন চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের সামরিক নেতৃত্ব গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর সম্ভাব্য সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন নিয়ে আলোচনা করছে। এর লক্ষ্য রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকানো এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তা জোরদার করা।

একসময় ডেনমার্কের উপনিবেশ থাকা গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সালে স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। বর্তমানে দ্বীপটির জনগণ আরও স্বাধীনতার বিষয়ে ভাবছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন